জল’ লিখব না। বিধর্মীদের শব্দ। তাহলে, জলাশয়, জলাতঙ্ক, জলজ, সজল, জলাভূমি?
‘পানি’ লিখব না। মুসলিমদের শব্দ। তাহলে হিন্দি ও উর্দু ভাষাভাষী হিন্দুরা কী বলেন?
‘ঈদ’ নয় ‘ইদ’ লিখতে হবে। কারণ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন বিদেশি শব্দে হ্রস্ব-ই কার দিতে। বানান শৃঙ্খলার অজুহাত। কিন্তু নিপাতনে সিদ্ধ বানানে বানান শৃঙ্খলার অজুহাত কোথায়?
স্বলাহ, রামাদান/ড়মাদন, তাজউইদ বানানের কারণ কী? নামাজ, রোজা, খোদা বললেই কি শিরক?
মিলাদুন্নবী নাকি সিরাতুন্নবী? রাজ শেখর বসু কেনো আরবি-ফারসি ভাষার অভিধান রচনা করেছিলেন? পত্রিকা কেন মানুষের মৃত্যুর চেয়ে গাছের কর্তন নিয়ে সরব হয়?
আবুল মনসুর আহমদ কেন ও কোন প্রেক্ষাপটে কলকাতাকে এড়িয়ে স্বতন্ত্র বাংলাদেশী বাংলা ভাষার প্রস্তাব দিয়েছিলেন?
শব্দের উৎপত্তিগত অর্থ কি প্রচলিত অর্থের চেয়ে শক্তিশালী? উৎস আমলে নিয়ে কি কোনো শব্দের ব্যবহার শিরক হতে পারে?
এইসব ইসলাম, মুসলমান, বাংলাদেশী, বাঙ্গালী, আদিবাসী, উপজাতি, শিল্প-সংস্কৃতির বহুবিধ প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে এক নীরব অথচ দৃঢ় সফরের নাম ‘ভাষারাজনীতি’। আপনি পড়তে পড়তে আবিষ্কার করবেন নতুন আপনাকে।
নতুন এক ভাষাজগতকে।


